ইফতার ও সেহরির সময়সূচি নাটোর জেলা ২০২৬

ইফতার ও সেহরির সময়সূচি নাটোর জেলা ২০২৬ সম্পর্কে জানা প্রত্যেকটি মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রমজান মাস হল আমাদের মুসলমানদের জন্য রহমতের মাস প্রত্যেকটি মুসলমানের জন্য রমজান মাস নিয়ে আসে খুশির আমেজ।
ইফতার-ও-সেহরির-সময়সূচি-নাটোর-জেলা-২০২৬
তাই রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য সেহরি ও ইফতারের  সঠিক সময় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা নাটোর জেলার ২০২৬ সালের ইফতার ও সেহরীর সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো তাই মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন। 

পেজ সুচিপত্রঃ ইফতার ও সেহরির সময়সূচি নাটোর জেলা ২০২৬

ইফতার ও সেহরির সময়সূচি নাটোর জেলা ২০২৬

ইফতার ও সেহরির সময়সূচি রমজান মাসে সঠিক নিয়মে রোজা পালনের জন্য সর্বপ্রথম দরকার । নিম্নে নাটোর জেলার ২০২৬ সালের ইফতার ও সেহরীর সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

রহমতের ১০ দিন


রমজান দিন তারিখ (২০২৬) সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
০১ ১৮ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৯ AM ০৬ঃ০০ PM
০২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৯ AM ০৬ঃ০১ PM
০৩ ২০ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৮ AM ০৬ঃ০২ PM
০৪ ২১ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৭ AM ০৬ঃ০২ PM
০৫ ২২ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৭ AM ০৬ঃ০৩ PM
০৬ ২৩ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৬ AM ০৬ঃ০৩ PM
০৭ ২৪ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৫ AM ০৬ঃ০৪ PM
০৮ ২৫ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৪ AM ০৬ঃ০৪ PM
০৯ ২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৪ AM ০৬ঃ০৫ PM
১০ ২৭ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১৩ AM ০৬ঃ০৫ PM

মাগফিরাতের ১০ দিন


রমজান দিন তারিখ (২০২৬) সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
১১ ২৮ ফেব্রুয়ারি ০৫ঃ১২ AM ০৬ঃ০৬ PM
১২ ০১ মার্চ ০৫ঃ১১ AM ০৬ঃ০৬ PM
১৩ ০২ মার্চ ০৫ঃ১০ AM ০৬ঃ০৭ PM
১৪ ০৩ মার্চ ০৫ঃ০৯ AM ০৬ঃ০৭ PM
১৫ ০৪ মার্চ ০৫ঃ০৮ AM ০৬ঃ০৮ PM
১৬ ০৫ মার্চ ০৫ঃ০৭ AM ০৬ঃ০৮ PM
১৭ ০৬ মার্চ ০৫ঃ০৬ AM ০৬ঃ০৯ PM
১৮ ০৭ মার্চ ০৫ঃ০৫ AM ০৬ঃ০৯ PM
১৯ ০৮ মার্চ ০৫ঃ০৪ AM ০৬ঃ১০ PM
২০ ০৯ মার্চ ০৫ঃ০৩ AM ০৬ঃ১০ PM 

নাজাতের ১০ দিন 


রমজান দিন তারিখ (২০২৬) সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
২১ ১০ মার্চ ০৫ঃ০২ AM ০৬ঃ১১ PM
২২ ১১ মার্চ ০৫ঃ০১ AM ০৬ঃ১১ PM
২৩ ১২ মার্চ ০৫ঃ০০ AM ০৬ঃ১২ PM
২৪ ১৩ মার্চ ০৪ঃ৫৯ AM ০৬ঃ১২ PM
২৫ ১৪ মার্চ ০৪ঃ৫৮ AM ০৬ঃ১৩ PM
২৬ ১৫ মার্চ ০৪ঃ৫৭ AM ০৬ঃ১৩ PM
২৭ ১৬ মার্চ ০৪ঃ৫৬ AM ০৬ঃ১৪ PM
২৮ ১৭ মার্চ ০৪ঃ৫৫ AM ০৬ঃ১৪ PM
২৯ ১৮ মার্চ ০৪ঃ৫৪ AM ০৬ঃ১৫ PM
৩০ ১৯ মার্চ ০৪ঃ৫৩ AM ০৬ঃ১৫ PM

সেহরি ও ইফতারের দোয়া বা নিয়ত সমূহ 

রমজান হলো রহমতের মাস। রাতের শেষ ভাগ অর্থাৎ ফজরের আজানের আগে সেহরি করার মাধ্যমে আমাদের রোজা শুরু হয় এবং মাগরিবের আজানের সময় ইফতারের মাধ্যমে আমাদের রোজা সম্পন্ন হয়। তাই সেহেরী ও ইফতারের দোয়া সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

সেহরির নিয়ত

সেহরির নিয়ত হলো- " নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন ফারদি শাহরি রামাদানা লিল্লাহি তাআলা "
অর্থঃ  আমি আগামীকাল আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

ইফতারের নিয়ত

ইফতার হলো দোয়া কবুল হওয়ার মুক্ষম সময়। তাই ইফতারের আগেও পরে বেশি বেশি দোয়া করা খুবই জরুরী। ইফতারের নিয়ত হলো- " আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা ছুমতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিযিক্কিকা আফতারতু। " 
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম।

সেহরি ও ইফতারের কোন ধরনের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত

রোজার সময় আমাদের শরীরকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সেহরি এবং ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের সবসময় সেহরিতে এমন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত যা  ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় আমাদের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। 
ইফতার-ও-সেহরির-সময়সূচি-নাটোর-জেলা-২০২৬
যেমনঃ জটিল কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার ( লাল চালের ভাত, রুটি, চিঁড়া, ওটস ), প্রোটিনযুক্ত খাবার অর্থাৎ ডিম,দুধ, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, মাছ, মুরগি ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া এক্ষেত্রে খেজুর খুবই ভালো একটি খাবার সেহরির জন্য। সেহরির সময় দুই থেকে তিন গ্লাস পানি অবশ্যই পান করা উচিত।

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় কখনোই বেশি খাওয়া-দাওয়া করা উচিত নয় এতে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। ইফতারের শুরুতে আমরা সাধারণত খেজুর এবং শরবতের মাধ্যমে রোজা ভেঙ্গে থাকি। আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অবশ্যই ইফতারের সময় বেশি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা এতে আমাদের বদহজম হতে পারে আবার এটি ওজন বাড়তেও সাহায্য করে। তাই ইফতারের সময় আমাদের প্রোটিন সবজি ইত্যাদি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। সাধারণত ইফতার করার সাথে সাথে ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয় মাগরিবের পর বা তার কিছুক্ষণ পর আমাদের রাতের খাবার খাওয়া উচিত এবং ইফতার ও সেহরির সময়সূচি অবশই অনুসরণ করা উচিত। 

রমজান মাসের আমলসমূহ 

আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো রমজান মাস তাই মুসলমানদের জন্য রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসের প্রত্যেকটি নেক আমল আল্লাহ তাআলা সওয়াব দ্বিগুণ করে দেন তাই রমজান মাসকে আমাদের সবসময় যথাযথভাবে পালন করা উচিত এবং আমলগুলো নিয়মিত পালন করা উচিত। রমজান মাসের প্রধান ফরজ ইবাদত হল রোজা। রাখা সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং যাবতীয় সকল প্রকার নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলা হয়। রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল হতে এবং সকল ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে।

অবশ্যই আমাদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে এবং রমজান মাসে তারাবির নামাজ অবশ্যই আদায় করতে হবে। রমজান মাসের আরেকটি বড় আমল হল নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা প্রতিদিন নিয়ম করে কোরআন তেলাওয়াত করা এবং অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করার মাধ্যমে অনেক আমল অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাস হল দোয়া কবুলের মাস তাই রমজান মাসে বেশি বেশি করে দোয়া ও জিকির করতে হবে বিশেষ করে ইফতার ও শেষ রাতের দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

রমজান মাসে বেশি বেশি দান সাদকা করতে হবে, গরিব, এতিম এবং অসহায়দের সাহায্য করার রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অতীতের গুনাহর জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং বেশি বেশি করে তাওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে। রমজানের শেষ দশদিনের বিজোড় রাত গুলোতে লাইলাতুল কদরের ইবাদত করতে হবে।  

রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য 

ইসলাম ধর্মে রমজান মাসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অনেক আল্লাহ তাআলা এ মাসকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং রোজা পালন করা মুসলমানদের জন্য ফরজ করেছেন। রমজান মাসকে রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস বলা হয়। রমজান মাস এমন একটি মাস যা আমাদের আত্মশুদ্ধি করে। তাই রমজান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের আর্টিকেলটির এই অংশ আমরা রমজান মাসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করব। 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হলো রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর রোজা ফরজ হয়েছে তাই অবশ্যই আমাদের রোজা পালন করতে হবে। রোজা মানুষের ধৈর্যশীল সহনশীল ও নৈতিকভাবে উন্নতি করতে সাহায্য করে এবং সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে আমাদের বিরত রাখে। রমজান মাসের গুরুত্ব অনেক আর রমজান মাসের গুরুত্ব অনেক হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো এটা সেই মাস যে মাসে আমাদের ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন নাজিল হয়েছিল তাই এই মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা অনুধাবন করা অধ্যয়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

রমজান মাস এমন একটি মাস যে মাসে আমাদের সকল ইবাদতের ফজিলত অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়। তাই রমজান মাসে তারাবির নামাজ তাহাজ্জুদ ও জিকির এর মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পেয়ে থাকে। রমজান মাস সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সাহায্য করে। সবশেষে বলা যায় রমজান মাস হল এমন একটি মাস যা মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি করে আত্মগঠন করতে সাহায্য করে এই মাসে গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বলে শেষ করা যাবে না তাই একজন মুসলমান হিসেবে অবশ্যই আপনাকে রমজান মাসের আমলসমূহ পালন করতে হবে।

শবে কদরের রাতের গুরুত্ব 

ইসলাম ধর্মে শবে কদরের রাত হলো এক অতুলনীয় রাত যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে "লাইলাতুল কদর" বলে উল্লেখ করেছেন। এটি এমন একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সাধারণত রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি রাতে এটি সংঘটিত হয়। শবে কদরের রাতের গুরুত্ব এবং ফজিলত মুসলমানদের জীবনে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল এই কদরের রাতেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন- "নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে।" (সূরা আল-কদর) 

শবে কদরের রাতের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এই রাতে ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। একজন মুমিন ব্যক্তি যদি অন্তর থেকে শবে কদরের ইবাদত করেন তবে তিনি যেন সারা জীবনের ইবাদতের সাওয়াব লাভ করেন। তাই একজন মুসলিম হিসেবে শবে কদরের ইবাদত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শবে কদরের রাত হল গুনাহ মাফের রাত যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় শবে কদর ইবাদত করবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। 

এই রাতে বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই রাতে ফেরেস্তাগন এবং রুহু পৃথিবীতে অবতরণ করেছিল তাই এই রাত্রি হল একটি রহমত ও বরকতের রাত। শবে কদরের রাত আমাদের জীবনের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট অর্জন করতে সাহায্য করে, পাপ থেকে ফিরে আসতে এবং জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে সাহায্য করে তাই শবে কদরের রাতের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অনেক যা বলে শেষ করা যাবে না।

ইসলামিক মতে যাকাত প্রদানের গুরুত্ব 

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো যাকাত। ইসলামে যাকাতকে ফরজ করা হয়েছে। তাই যাকাত প্রদান করা ইসলামিক মতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং এর তাৎপর্য অনেক। যাকাত শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা মানুষের সম্পদ প্রবিত্র করেন এবং সে সম্পর্কে বরকত দান করেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যাকাত হল ধনীদের সম্পদের ওপর দরিদ্রদের অধিকার।

যাকাতের মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয় এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে আসে। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের অনেক বড় মাধ্যম এটি। যাকাত মানুষের অন্তর থেকে লোভ, অহংকার দূর করতে সাহায্য করে। যাকাতের গুরুত্ব আখেরাতের দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক। যারা যাকাত আদায় করেন না অথচ তাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে তাদের জন্য কুরআনে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে অন্যদিকে যারা নিয়মিত যাকাত আদায় করে তাদের জন্য রয়েছে পুরষ্কার ও জান্নাতের সুসংবাদ। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান যার উপর যাকাত ফরজ হয়েছে যার নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার অবশ্যই যাকাত প্রদান করা উচিত।

গরিব দুঃখীদের ইফতার করালে কি হয় 

গরিব দুঃখীদের ইফতার করানো হলো ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় একটি ফজিলতপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। রমজান মাসে এই আমলের গুরুত্ব অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাদিসে বারবার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন- " যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।" (তিরমিজি) এতেই বোঝা যায় যে গরিব দুঃখীদের ইফতার করলে কত সওয়াব পাওয়া যায়।

রমজান মাস হল ক্ষমা ও রহমতের মাস। তাই এই মাসে বেশি বেশি করে দান সাদকা করলে বিশেষ করে ইফতারের মাধ্যমে গুনাহ মাফের সুযোগ থাকে আবার গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়। অভাবী গরিব-দুঃখীদের খাওয়ালে আল্লাহ তা'আলা রিজিকে বরকত দেন এবং শুধু আর্থিক বরকত নয় বরং মানসিক শান্তি ও অন্তরে তৃপ্তি এনে দেন। তাই গরিব দুঃখীদের ইরতার করানো শুধুমাত্র সামাজিক দায়িত্ব নয় বরং এটি মহান আল্লাহ তাআলার একটি ইবাদত। এবং এই আমলের মাধ্যমে আল্লাহতালা সন্তুষ্টি অর্জন  করা যায়।

কিছু সহজ ও মজাদার ইফতার তৈরির রেসিপি

বাংলাদেশের কালচারে রমজান মাস মানে মজাদার ইফতার। ছোট বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে যা আজকে ইফতারের কোন রেসিপি টা হবে। আপনি যদি ইফতারের মজাদার এবং সহজ কিছু রেসিপি তৈরি করতে চান বা কি বানাবেন বুঝতে পারছেন না
ইফতার-ও-সেহরির-সময়সূচি-নাটোর-জেলা-২০২৬
তাহলে আজকে আর্টিকেলটি আপনার জন্য হবে একদম পারফেক্ট। তাই প্রতিদিন মজাদার ইফতার তৈরি করার জন্য আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন আশা করি অনেক উপকৃত হবেন। 

ডিম পেঁয়াজের পাকোড়াঃ  একটি বাটি নিন এবং তাতে ডিম, পেঁয়াজ কুচি, বেসন, লবণ , মরিচ অথবা কাঁচামরিচ নিন এবং তা ভালোভাবে মিশিয়ে একটি ঘন বেটার তৈরি করে নিন এখন এই ব্যাটারটি গরম তেলে ভালোভাবে ভেজে নিন তাহলে ১০ মিনিটে পাকোড়া তৈরি।

চিজ ব্রেড রোলঃ  প্রথমে গ্রেট করা চিজ পেঁয়াজকুচি গোলমরিচ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এবার এই মিশ্রণটি পাউরুটির মাঝে সুন্দরভাবে দিয়ে রোল করেন এবং ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে নিন। এবার এই রোল ঠিক একদম গরম তেলে ভালোভাবে হালকা বাদামি করে ভেজে নিন তাহলে খুব সহজেই হয়ে যাবে চিজ ব্রেড রোল। 

ডিম ও আলুর চপঃ প্রথমে ডিম গুলোকে সিদ্ধ করে নিন এবং চারটা ভাগ করুন। এবার একটি বাটিতে সেদ্ধ আলু পেঁয়াজকুচি কাচামরিচ ধনেপাতা লবণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এবার হাতে নিয়ে সুন্দর ভাবে বল তৈরি করুন এবং প্রত্যেকটি বলের মধ্যে একটি করে ডিমের টুকরো দিন এবার এই বলগুলো ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে হালকা ব্রেডক্রাম দিয়ে মুড়িয়ে নিন এবং গরম তেলে হালকা বাদামি কালার করে ভেজে নিন ।

ঝটপট ফলের চাটঃ ফলের চাট তৈরিতে আপনি বিভিন্ন ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এবং এ ফলগুলো ছোট ছোট টুকরা করে কেটে তার সাথে লেবুর রস এবং সামান্য কিছু চাট মসলা মিশলেই খুব সহজেই ফলের চাট তৈরি হয়ে যায়।

শেষ কথাঃ ইফতার ও সেহরির সময়সূচি নাটোর জেলা ২০২৬

ইফতার ও সেহরির সময়সূচি সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের কত তারিখ থেকে রোজা শুরু এবং রোজায় কিভাবে ইফতার ও সেহরির সঠিক সময় বের করবেন সেই সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটিতে পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলো ব্যতীত এই আর্টিকেলে রোজার গুরুত্ব, রমজান মাসের আমল, শবে কদরের রাতের আমল, যাকাত প্রদানের আমল ইত্যাদি সম্পর্কে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে রমজান মাসের গুরুত্ব কতটুকু। একজন মুসলমান হিসেবে রমজান মাস সম্পর্কে জানা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।। আশা করা যায় যে আমি আপনার মাঝে সেই বার্তাটি পৌঁছাতে পেরেছি যে বার্তার মাধ্যমে আপনার মধ্যে রমজান মাসের ফরজ কাজগুলো করার অনুপ্রেরণা আসবে। তাই আল্লাহ তাআলা নৈকট্য লাভের জন্য অবশ্যই রমজান মাসের সকল ফরজ কাজ পালন করুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা আপনার সকল দোয়া কবুল করবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url