পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন বা কিভাবে পুদিনা পাতা খাবেন তা বুঝতে পারছেন না তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য হবে সবচেয়ে উপযুক্ত। আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা পুদিনা পাতা খাবার উপকারিতা ও অপকারিতা 

পুদিনা-পাতা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
পুদিনা পাতা খেলে কি হয় বা পুদিনা পাতা কিভাবে খেতে হয় বা পুদিনা পাতা খাবার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই পুদিনা পাতা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন আশা করি উপকৃত হবেন। 

পেজ সুচিপত্রঃ পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা দুইটাই রয়েছে যা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। পুদিনা পাতা হল এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা আমাদের দেশে খুবই পরিচিত এবং প্রায় সব জায়গাতে এটি খুব সহজে পাওয়া যায়। এই পুদিনা পাতার অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে পুদিনা পাতা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন যদি খাবারের পর পুদিনা পাতার রস খাওয়া হয় তাহলে তা হজমে খুবই দ্রুত সাহায্য করে।

পুদিনা পাতায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল আমাদের মুখের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ দূর হয়। অনেক সময় পুদিনা পাতার সুগন্ধ ও প্রাকৃতিক তেল বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে।  পুদিনা পাতার গন্ধ স্নায়ুকে শান্ত করে মাথা ব্যথা কমায় এবং আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তাই পুদিনা পাতার উপকারিতা অনেক এবং নিয়মিত পুদিনা পাতা খেলে আমাদের শরীর- স্বাস্থ্য সুন্দর থাকে।

পুদিনা পাতা খাওয়ার কিছু অপকারিতাও রয়েছে যেমনঃ অতিরিক্ত পুদিনা পাতা খেলে এটি অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে তাই অতিরিক্ত পুদিনা পাতা কখনো হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাদের ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কিছু কিছু মানুষের পুদিনাতে অ্যালার্জি থাকতে পারে তাই পুদিনা পাতা খেলে চুলকানি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীদের ক্ষেত্রে কখনোই অতিরিক্ত পুদিনা পাতা খাওয়া উচিত নয় এটি শরীরের জন্য সেই সময় ক্ষতিকর। 

পুদিনা পাতার রস খেলে কি হয় 

পুদিনা পাতার রস আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে পুদিনা পাতার রস খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়ে থাকে। পুদিনা পাতার রস আমাদের হজমে সহায়তা করে এবং নিয়মিত অল্প পরিমাণে খালি পেটে খেলে এটি আমাদের পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 
পুদিনা-পাতা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
পুদিনা পাতার রস আমাদের ঠাণ্ডা-কাশিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুদিনা পাতার রস আমাদের ত্বকের জন্য অনেক ভালো একটি উপাদান এটি নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলে আমাদের শরীরের ভেতর থেকে রক্তের পরিশোধন করতে সাহায্য করে যার ফলে মুখের ব্রণ সানটেইন জাতীয় সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে যায়। 

পুদিনা পাতা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা এবং সতেজ রাখে বিশেষ করে গরমের সময় পুদিনা পাতার জুস বা শরবত আমাদের শরীরকে অনেক ঠান্ডা রাখে এবং যেকোনো কাজ করতে সাহায্য করে। অনেকেই মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা খায়। এটি আমাদের শরীরকে ভিতর থেকে সতেজ করে তুলে। তবে কখনই অতিরিক্ত পুদিনা পাতার রস খাওয়া যাবে না এতে আবার উপকার হবার বদলে খারাপ হতে পারে। তাই প্রতিদিন ১-২ চামচ এর বেশি না খাওয়াই উত্তম। 

সর্দি কাশি নিরাময়ে পুদিনা পাতার ব্যবহার 

সর্দি কাশি এমন একটি সমস্যা যা আমাদের বিভিন্ন ধরনের কারণে হয়ে থাকে। যেমনঃ আবহাওয়া পরিবর্তন ভাইরাস সংক্রমণ ধুলোবালি বা ঠান্ডা লাগার কারণে সর্দি কাশি প্রায় দেখা যায় আর এই সর্দি কাশি নিরাময় করতে পুদিনা পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীন কাল থেকেই পুদিনা পাতা ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের আর্টিকেলটির এই অংশে সর্দি কাশি নিরাময়ে পুদিনা পাতা কি কি উপকারে আসে তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পুদিনা পাতায় থাকে মেন্থল যা আমাদের নাকের বন্ধ ভাব দূর করতে সাহায্য করে এবং আমাদের শ্বাসনালী প্রশস্ত করে যার ফলে আমরা খুব সহজে শ্বাস নিতে পারি। আবার পুদিনা পাতায় থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিভাইরাস গুন আমাদের সর্দি-কাশির জীবাণুর দমন করে এর ফলে সর্দি কাশি খুব সহজেই কমে যায় এবং গলা ব্যথা ও জ্বালাপোড়া কমাতে পুদিনা পাতার রস খুবি সাহায্য করে। কাশির সময় জমে থাকা কফ পুদিনা পাতা হাল্কা করতে সাহায্য করে। 

পুদিনা পাতা এবং আদা একসাথে বেটে রস বের করে তার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে তা সর্দি কাশি নিরাময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার পুদিনা পাতা গরম পানিতে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভাব দিয়ে নিলে এবং সেই ভাব নাকের মধ্যে নিলে তা সর্দির সময় শ্বাস নিতে সাহায্য করে। আবার পুদিনা পাতা এবং লেবু গরম পানির সাথে খেলে গলা পরিস্কার হয়। তাই খুব সহজেই বলা যায় সর্দি কাশি নিরাময়ে পুদিনা পাতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ওজন কমাতে পুদিনা পাতার ভূমিকা 


বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন শরীরের ক্ষতি ছাড়াই ওজন কমাতে অনেকে বিশেষ প্রাকিতিক উপাদানের দিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সেই ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ওজন কমাতে। এটি এমন একটি ভেষজ উপাদান যা খুব সহজেই পাউয়া যায় এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ওজন কমাতে অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বপ্রথম দরকার অনেক ভালো হজম শক্তি আর পুদিনা পাতা এমন একটি ভেষজ উপাদান যা আমাদের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতায় থাকা মেন্থল উপাদান হজম রস নিঃসরণ সহায়তা করে যার ফলে খাবার খুব সহজে হজম হয়ে যায় এবং আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যায় এর ফলে আস্তে আস্তে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি জমা প্রবণতা কমে যায়।অনেক সময় আমাদের কি হয় যে অপ্রয়োজনে ক্ষুদা বা বারবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার সুগন্ধ সাদ মস্তিষ্কে ক্ষুধা কমানোর সংকেত পাঠাতে সাহায্য করে যার ফলে আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

পুদিনা পাতার রস আমাদের শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করতে সাহায্য করে আর মেটাবলিজম শরীরের ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে যার ফলে খুব সহজে শরীরের ওজন কমে। পুদিনা পাতা আমাদের শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এটি শরীরের ক্ষতিকারক বর্জ্য উপাদান শরীর থেকে বের করে দেয়। শরীরের বিষাক্ত উপাদান এবং অতিরিক্ত পানি বের হলে এমনিতেই শরীরের ফোলা ভাব কমে পুদিনা পাতা মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। 

পুদিনা পাতা কিভাবে শরীরকে সতেজ রাখে 

পুদিনা পাতা হল এমন একটি কার্যকর ভেষজ প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা সুগন্ধ ঠাণ্ডাভাব পুষ্টিগণ আমাদের শরীর ও মনের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে যা আমাদের মনকে করে তুলে সতেজ এবং উৎফুল্ল। পুদিনা পাতায় থাকা মেন্থল আমাদের শরীরের শীতল অনুভূতি সৃষ্টি করে যার ফলে গরমে বা শরীর যখন অনেক ক্লান্ত হয়ে যায় সেই অবস্থায় পুদিনা পাতার শরবত বা চা খেলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং শরীর আরাম অনুভূত হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি শরীরে একটি স্বতন্ত্র ভাব চলে আসে।

পুদিনা পাতা আমাদের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় অনেক যখন ক্লান্তি হয় বা মাথাব্যথা হয় সেই সময় পুদিনা পাতার ঘ্রান নিলে আমাদের শরীল এবং মন সাথে সাথে চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং আমরা খুব ভালো অনুভব করি। এছাড়া পুদিনা পাতা আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতা মুখের দুরগন্ধ দূর করে সতেজতা আনে যা আমাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুন বারিয়ে দেয়। তাই শরীরকে সতেজ এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে পরিমানমত পুদিনা পাতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

পুদিনা পাতা দিয়ে রূপচর্চা

পুদিনা পাতা যেহেতু একটি প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান তাই এটিদের রূপচর্চা করা খুবই সহজ এবং নিরাপদ পুদিনা পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায় যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। পুদিনা পাতা ব্রনের দাগ কমাতে সাহায্য করে, পুদিনা পাতায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন ব্রন সৃষ্টিকারী জীবনু নষ্ট করে যার ফলে ব্রনের দাগ খুব হালকা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কয়েকটি পুদিনা পাতা বেটে তার সাথে এক চামচ মধু মেশিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন এক সপ্তাহের মধ্যে আপনি পার্থক্য বুঝতে পারবেন। 

পুদিনা পাতার রস গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে কটন দিয়ে তা মুখে লাগান তাহলে দেখবেন ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব, রোদে পোড়া ভাব এবং ক্লান্তি দূর হয়ে ত্বক হয়ে উঠবে ঠান্ডা এবং সতেজ। পুদিনা পাতা রক্ত সঞ্চালন করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুদিনা পাতার রস, টক দই এক চা চামচ এবং সামান্য লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে যদি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন আপনার ত্বকের  উজ্জ্বলতা বাড়ছে। 

শুধু ত্বকের না চুলের যত্নেও পুদিনা পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালকের। পুদিনা পাতা চুলের খুশকি কমাতে খুবই সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমাতে এবং চুল সতেজ রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর যদি শ্যাম্পু করে নিতে পারেন তাহলে দেখবেন চুলের খুশকি সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে গেছে। তবে সেন্সিটিভ ত্বক যদি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে পুদিনা পাতায় সমস্যা হতে পারে তাই যাদের সেনসিটিভ ত্বক তারা পুদিনা পাতা ব্যবহার না করাই ভালো। 

পুদিনা পাতার চায়ের উপকারিতা 

পুদিনা পাতার চা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুদিনা পাতার চা আমাদের শরীরকে সতেজ রাখে এবং মনকেও প্রশান্তি দেয় এটি আমাদের হজম শক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। 
পুদিনা-পাতা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
ঠান্ডা ও কাশিতে এবং গলা ব্যথা ভালো করতে পুদিনা পাতা চায়ের কোন বিকল্পই হয় না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ পুদিনা পাতার চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের আর্টিকেলটির এই অংশে পুদিনা পাতার চা তৈরির পক্রিয়া সম্পরকে আলচনা করব। 

পুদিনা পাতার চা তৈরির নিয়ম

উপকরনঃ পুদিনা পাতা ১০-১২ টি, ১ কাপ পানি, মধু ১ চামচ, লেবু ১ চামচ। 

প্রস্তুত প্রনালিঃ প্রথমে একটি পাত্রে এক কাপ পানি ফুটিয়ে নিতে হবে এবং পানি ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে পুদিনা পাতা পানিতে দিতে হবে এবং ঢেকে রাখতে হবে। এবার পাঁচ থেকে সাত মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর সেই তরল পানি ভালোভাবে ছেঁকে নিতে হবে এবং তার সাথে এক চামচ মধু এবং এক চামচ লেবু ভালোভাবে মেশাতে হবে তাহলে খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার পুদিনা পাতার চা। তবে লক্ষ রাখতে হবে যে  দিনে ১-২ কাপের বেশি পুদিনা পাতার চা পান করবেন না কারণ অতিরিক্ত পুদিনা পাতার চা পান করলে তা  শরীরের জন্য ক্ষতী করতে পারে।

রান্নায় পুদিনা পাতার ব্যবহার 

রান্নার ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা খুবই জনপ্রিয় এবং বহুমুখী একটি উপাদান। এটি শুধু খাবারের স্বাদ বারায় না বরং খাবার কে গড়ে তুলে সুগন্ধি এবং সতেজ। আমরা বিভিন্নভাবে রান্নার ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ব্যবহার করে থাকি। চাটনি ও সস তৈরিতে পুদিনা পাতা খুবই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পুদিনা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে তৈরি করা পুদিনা চাটনি খাবারের স্বাদ অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয় বাঙালি ঘরে সন্ধ্যার নাস্তায় পাকোড়া, কাবাব,চপ এর সাথে পুদিনা পাতার চাটনি তো অবশ্যই লাগে।

পোলাও এবং বিরিয়ানির জাতীয় খাবার তৈরিতে পুদিনা পাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। পুদিনা পাতা পোলাও বা চিকেন বিরিয়ানিতে আলাদা একটি স্বাদ ও গন্ধযুক্ত করে যা খাবারের মান আরো বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া মাংস ও মাছের তরকারি রান্নাতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় আমরা মাছের গন্ধের জন্য মাছ খেতে পারি না বা খাসির মাংস গন্ধের জন্য খেতে পারি না সে ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ব্যবহার করলে মাছের এবং খাসির গন্ধ থাকে না। 

সবজি ও ডাল রান্নায় পুদিনা পাতা খুব ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সবজি আলু ভাজি ও ডাল বানাতে আমরা পুদিনা পাতা ব্যবহার করে থাকি। এছাড়া সালাত ও রায়তা বানাতে তো অবশ্যই লাগে। শসা টমেটো পেঁয়াজের সালাতে কুচু কুচু করে পুদিনা পাতা দিলে সেই সালাদ খেতে আরো মুখরোচক হয় এবং অনেক সতেজ হয়। রায়তা তৈরিতে দইয়ের সাথে তোহ পুদিনা পাতা লাগেই। আর রান্নায় পুদিনা পাতার ব্যবহার শুধু স্বাদের জন্য নয় এটি স্বাস্থ্য এর জন্যও অনেক উপকারি। 

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিকসমূহ

সাধারণত পুদিনা পাতা উপকারী ভেষজ উৎপাদন হলেও এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক রয়েছে। অতিরিক্ত বা ভুলভাল উপায় পুদিনা পাতা খেলে তার শরীরের জন্য বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে যদি আমরা অতিরিক্ত পুদিনা পাতা খেয়ে থাকি সে ক্ষেত্রে আমাদের হজমে সহায়তার জায়গায় সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই অতিরিক্ত কখনোই খাওয়া যাবে না। যদি রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে সেক্ষেত্রে পুদিনা পাতা খেলে অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে। তাই পুদিনা পাতা খাওয়ার আগে জেনে নিতে হবে যে এটি আপনার শরীরের জন্য সঠিক কিনা। 

অনেক মানুষেরই পুদিনা পাতাতে এলার্জি থাকতে পারে সেক্ষেত্রে যদি পুদিনা পাতা খাওয়া হয় তাহলে শরীরে চুলকানি, রেষ লালচে ভাব বা শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে তাই পুদিনা পাতা খাওয়ের আগে অল্প পরিমাণে খেয়ে পরীক্ষা করা উচিত। আবার গর্ভবতী মহিলার জন্য পুদিনা পাতা না খাওয়াই ভালো কারণ এই সময় হরমোনের ভারসাম্যতে প্রভাব ফেলতে পারে পুদিনা পাতা। আবার পুদিনা পাতা ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে এক্ষেত্রে ত্বকে সরাসরি ব্যবহার না করাই ভালো।

যাদের লিভার ও কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কখনোই পুদিনা পাতা খাওয়া উচিত নয় কারণ পুদিনা পাতা লিভার এবং কিডনির উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে এক্ষেত্রে এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ আবার পুদিনা পাতা কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে বা বাড়াতে পারে তাই যখন কোন ওষুধ চলমান থাকবে সেই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পুদিনা পাতা খাওয়া উচিত নয়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে পরিমিত পুদিনা পাতা সেবন করতে হবে। 

শেষ মন্তব্যঃ পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা পুদিনা পাতা খেলে কি হয়, পুদিনা পাতা খাওয়ার নিয়ম, পুদিনা পাতাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কি কি থাকে ইত্যাদি সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।  আপনি যদি আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন যে পুদিনা পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা  ঠিক কতটুকু বা এটা অতিরিক্ত খেলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যদি নিয়ম মেনে পরিমান মত পুদিনা পাতা খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি অনেক উপকৃত হবেন তাই অতিরিক্ত পরিমাণে নেয়া না খেয়ে নিয়মমতো পুদিনা পাতা সেবন করুন এবং নিজেকে সুস্থ রাখুন। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url