চুলের যত্নে মেথি ও অ্যালোভেরার ব্যবহার

 

আপনি কি চুল লম্বা,সিল্কি ও আকর্ষণীয় করতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য বেষ্ট হবে । চুল লম্বা সিল্কি ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করতে মেথি ও অ্যালোভেরা খুবই উপকারী উপাদান আর এটি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ার জন্য এটি অনেক কার্যকরী একটি পদ্ধতি। 

চুলের-যত্নে-মেথি-ও-অ্যালোভেরার-ব্যবহার

মেথি ও এলোভেরা আমাদের স্কেলফ কে ঠান্ডা হাইড্রেট রাখে,স্কেলফের ড্যানড্রাফ কমায় যার ফলে চুলের গোড়া হয় অনেক শক্ত এবং আমাদের চুল পড়া কমায় এবং নতুন চুল গজাতে এটি খুবই সাহায্য করে তাই ড্যামেজ চুল রিপেয়ার করতে অবশ্যই আমাদের মেথি ও অ্যালোভেরা ব্যবহার করা উচিত।

পেজ সুচিপত্রঃ চুলের যত্নে মেথি ও এলোভেরার ব্যবহার

চুলের যত্নে মেথি ও অ্যালোভেরার ব্যবহার

চুলের যত্নে মেথিও অ্যালোভেরা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান । এদের একসাথে ব্যবহার করলে এরা চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায় চুলের রুট শক্ত করে, স্ক্যাল্পে ইনফ্লামেশন থাকলে প্রশমিত করে ,রুক্ষ শুষ্ক চুল মসৃণ করে চুল পড়া কমায়, স্কেলফের ড্যানড্রাফ কমায় এবং ঠান্ডা হাইড্রেট রাখে যার ফলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলকে করে তুলে সুন্দর। তাই চুলকে সচ্ছোল,মসৃণ, সিল্কি ও স্বাস্থ্যউজ্জ্বল করতে অবশ্যই মেথিও অ্যালোভেরার হেয়ার মাক্স একবার হলেও ব্যবহার করা উচিত।

আরো পরুনঃ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

কথায় আছে চুলে নারীর সৌন্দর্য কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতিতে আমাদের সকলেরই চুলের অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। আর এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে মেথিও অ্যালোভেরার কোন তুলনা হয় না । 

চুলের-যত্নে-মেথি-ও-অ্যালোভেরার-ব্যবহার

মেথিতে রয়েছে প্রোটিন ,আয়রন লিথিনন ও নিকোটিন এসিড যা চুলকে শক্তিশালী করে তোলে ঠিক তেমনি অ্যালোভেরাতে রয়েছেরয়েছে ভিটামিন A,C,E,B12 এনজাইম ,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো এসিড যা স্কেলফ কে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে খুশকি কমায় ও চুলের আদ্রতা বজায় রাখে । তাই চুলের যত্নে চুলকে লম্বা করতে এবং সুন্দর বজায় রাখতে মেথি ও অ্যালোভেরা একসাথে ব্যবহারের কোন তুলনাই হয় না। তাই নিজের চুলের প্রতি সচেতন হতে আমাদের মেথিও অ্যালোভেরার হেয়ার মাস্ক সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করা উচিত।

মেথির উপকারিতা ও পুষ্টি উপাদান

মেথি হল এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক মেডিসিন যা হজম থেকে শুরু করে চুল ও ত্বকের যত্বে সব ক্ষেত্রে খুব ভালোভাবে কাজ করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে যদি মেথি ব্যবহার করা হয় বা খাওয়া হয় তাহলে তা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। মেথিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট ফাইবার আইরন ম্যাগনেসিয়ামক্যালসিয়াম যা সবকিছুই আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

চুলের যত্নে মেথির ভূমিকা অনেক মেথি দানা তে যে প্রোটিন রয়েছে তা চুলের গোড়াকে শক্ত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এটি আমাদের স্কেলফের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং যার ফলে চুলের ভাঙ্গন এবং রক্ষতা কমে যায়। মেথিতে থাকা স্যালাইন জাতীয় উপাদান আমাদের স্ক্যাল্পে প্রাকৃতিক কমিশনার হিসেবে কাজ করে ফলে চুল হয়ে উঠে শির্কি মসৃণ নরম ও চকচকে । তাই চুল এবং আমাদের স্বাস্থ্য কে সুস্থ রাখতে মেথির ভূমিকা অনেক এবং আমাদের সবারই মেথি ব্যবহার করা শুরু করা উচিত।

অ্যালোভেরা উপকারিতা ও পুষ্টি উপাদান

অ্যালোভেরা হলো একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা চুল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ,ক্ষত নিরাময় সাহায্য করে, বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান যেমন ভিটামিন A,C,E,B12 সহ খনিজ (ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম আয়রন পটাশিয়াম), ১৮ টিরও বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইম, এনটিঅক্সিডেন্ট ,পলিস্যাকারাইড ইত্যাদি থাকে যা  আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

অ্যালোভেরার উপকারিতা অনেক অ্যালোভেরা আমাদের চুল পড়া কমাতে ভূমিকা রাখে চুলকে নরম মস্রিন করে এবং খুশকি কমায়। এছাড়া রূপচর্চার অনেক খেতে অ্যালোভেরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অ্যালোভেরা আমাদের রোদে পূরা দাগ কমায় ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখে। এছাড়াও এলোভেরা সহায়তা করে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং ক্ষত নিরাময়ের এছাড়াও অ্যালোভেরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

মেথি ও অ্যালোভেরার হেয়ারমাক্স তৈরির পদ্ধতি

মেথি ও অ্যালোভেরা দিয়ে খুবই কার্যকর একটি হেয়ারমাক্স তৈরি করা যায় ,যা চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে থাকে। আর এটি বানানোর পদ্ধতিও খুব সহজ। প্রথমে একটি বাটিতে দুই থেকে তিন চামচ মেথি দানা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে সারা রাতের জন্য। এই সময় মেথি নরম হয়ে জেলের মতো টেক্সচার তৈরি করবে এইবার ভেজানো মেথি দানা ২-৩ চামচ পানি দিয়ে ব্লেন্ডারের মাধ্যমে ব্লেন্ড করে নিন।

একটি বাটিতে মেথির পেস্ট এবং তার সাথে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ এলোভের জেল নিন এবং এক চামচ নারিকেলের তেল মিশান তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে খুবই চমৎকার একটি হেয়ারমাক্স। এইবার এই হেয়ারমাক্স ভালোভাবে পুরো স্কেলপে ও চুলে লাগান এবং 30 থেকে 45 মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর শ্যাম্পু করে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন ,এরপর চুল শুকিয়ে যাওয়ার পরই দেখুন রেজাল্ট চুল হয়ে উঠবে একদম সিল্কি ,মসৃণ , নরম এবং ঝলমলে। 

মেথির সাথে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সংমিশ্রণ

চুল পড়া কমাতে ,চুল দ্রুত লম্বা করতে , স্কেলফ কে গভীরভাবে পুষ্টি দিতে মেথি ডিম ও লেবুর সমন্বয় তৈরি হেয়ারমাস্ক এর গুরুত্ব অনেক এবং এটি অনেক কার্যকরী একটি  হেয়ারমাস্ক একবার ব্যবহার করলে বুঝবেন এর উপকারিতা কতটা। ডিমের মধ্যে থাকা প্রোটিন ও ভিটামিন ই চুলের ভাঙ্গন কমিয়ে প্রাকৃতিক সাইন ফিরিয়ে আনে এবং লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি স্কাল্পের জমে থাকা তেল খুশকি ও ব্যাকেরা দূর করে মাথার ত্বকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
চুলের-যত্নে-মেথি-ও-অ্যালোভেরার-ব্যবহার

এই হেয়ারমাস্ক তৈরি করতে ২ টেবিল চামচ মেথি দানা এক রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে সকালে ভিজিয়ে রাখা দানা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করতে হবে এরপর এই পেস্টটির মধ্যে একটি ডিম  মিশাতে হবে এবং এক টেবিল চামচ লেবুর রস যোগ করতে হবে । এরপর মিশ্রণটি ভালভাবে মিশাতে হবে । এইবার মিশ্রণটি স্কেলপে এবং পুরো চুলে ভালোভাবে দিতে হবে এরপর 30 থেকে 40 মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর ভালোভাবে মাথায় শ্যাম্পু করে নিতে হবে । এই প্যাকটি ব্যবহারে আমাদের চুলের গোড়া খুবই মজবুত হয় এবং তাকে কিভাবে কন্ডিশনারের কাজ করে এবং চুল দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা মুখে দিলে কি হয়

অ্যালোভেরা হলো এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে থাকে। এটি হলো এমন একটি প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার উপাদান যা আমাদের ত্বকের শান্ত করে নরম করে এবং ত্বককে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে। এলোভেরা আমাদের ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে খুবই সাহায্য করে এবং তাকে করে তুলে নরম এবং চকচকে। ত্বকের  লালভাব ও জালাপোড়া  অ্যালোভেরা ইউজ করার মাধ্যমে কমে যায়। যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী একটি উপাদান ।

অ্যালোভেরা ত্বককে মশ্চারাইজার করে এর জেল খুবই হালকা হয় যার ফলে এটি সব ধরনের ত্বকেই ব্যবহার করা যায়। তৈলাক্ত, ড্রাই এবং সেজেটিভ সব ধরনের স্কিনে অ্যালোভেরা খুবই ভালো ব্যবহার করা যায় । অ্যালোভেরা আমাদের ত্বককে হাইড্রেট করে এবং ত্বকের তেলতেলে ভাব কমায়। নিয়মিত ব্যবহার ফলে এলোভেরা আমাদের ত্বকের ডার্ক স্পোর্ট  কমাতে সাহায্য করে।  অ্যালোভেরা নিয়মিত  ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু  বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হই । কারো কারো অ্যালোভেরাতে এলার্জি থাকতে পারে তাই প্রথম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পেচ টেস্ট করে নেয়া উচিত।

অ্যালোভেরা ও মেথি ব্যবহারের নিয়ম

অ্যালোভেরা ও মেথি দুটি ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান। এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বক এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক এবং চুল হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যজ্জ্বল। অ্যালোভেরা এবং মেথি ব্যবহারের অনেকগুলো নিয়ম এবং ধাপ রয়েছে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলোঃ

অ্যালোভেরা ব্যবহার করার নিয়মঃ 

 আমরা এলোভেরা জেল সরাসরি মাথার ত্বকে লাগাতে পারি এক্ষেত্রে প্রথমে অ্যালোভেরা পাতা থেকে এলোভেরার জেল বের করে নিতে হবে এবং তার সম্পূর্ণ চুলে ভালোভাবে লাগাতে হবে এরপর 30 মিনিট পর মাথায় ভালো ভাবে  শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে তাহলে চুল হয়ে উঠবে অনেক সিল্কি এবং সফট ।
 এছাড়াও অ্যালোভেরা মুখে ব্যবহার করা যায় সে ক্ষেত্রে প্রথমে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে তারপর এলোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে 15 থেকে 20 মিনিট রেখে দিতে হবে তারপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে সরাসরি আপনারা মুখে একটি ইনস্ট্যান্ট গ্লো এবং সফটনেস দেখতে পাবেন।

মেথি ব্যবহার করার নিয়ম:

মেথি সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সকালে তা ব্লেন্ড করে নিতে হবে এরপর চুলের গোড়া থেকে আগায় লাগিয়ে নিতে হবে এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে । তারপর চুল ভালো ভাবে  শ্যাম্পু করে নিতে হবে তারপরেই দেখবেন রেজাল্ট এটা আপনার চুলে ন্যাচারাল কন্ডিশনারের কাজ করবে এবং চুল করে তুলবে অনেক সফট এবং ঝলমলে। এছাড়াও ব্লেন্ড করা মেথি আমরা ফেসেও সরাসরি ব্যবহার করতে পারি এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ফেসের ব্যবহার করলে ব্রনের দাগ ও রুক্ষতা কমে যায়।

শেষ কথাঃ চুলের যত্নে মেথি ও অ্যালোভেরার ব্যবহার

চুলকে স্বাস্থ্যজ্জল ও সুন্দর করতে মেথি ও অ্যালোভেরার ব্যবহারের উপকারিতার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। চুল লম্বা করার জন্য মেথিও অ্যালোভেরা হল একটি সহজ সংগ্রহযোগ্য ও প্রাকৃতিক উপাদান যা সঠিক ও নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আমাদের চুলের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়ে যায় । এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তবে এলোভেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলন করার জরুরী কারণ অনেক সময় অ্যালোভেরাতে অনেকেই এলার্জি হতে পারে। 

সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অ্যালোভেরা ব্যবহারের পর আপনারা বুঝতে পারবেন আপনাদের চুলে কতটা পরিবর্তন এসেছে যা আপনাকে একটি নতুন আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে। চুলকে গোড়া থেকে পুষ্টি দিতে এই দুটি উপাদানের কোন তুলনায় হয় না। অ্যালোভেরা ও মেথি খুবই কার্যকরী দুইটি প্রাকৃতিক উপাদান তাই চুলকে স্বাস্থ্যজ্জ্বল সুন্দর মসৃণ ঝকঝকে ঝলমলে করতে নিয়মিত মিথি ও এলোভেরা ব্যবহার করুন।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url